রঞ্জুর ঈদ এবং রুটি রহস্য


আসলামু আলাইকুম বন্ধুরা কেমন আছো তোমরা। ঈদ মানেই নতুন জামা, সালামি আর রকমারি খাবার। তবে রঞ্জুর কাছে ঈদ মানেই ছিল একটু অন্যরকম, সেটা হলো তার আম্মুর হাতে বানানো সেই বিশেষ 'ঈদের রুটি'। রঞ্জু এমনিতে খুব একটা ভোজনরসিক নয়, কিন্তু ঈদের সকালের গরম গরম রুটি আর মাংসের ঝোলের কথা মনে পড়লে তার জিভে জল চলে আসে।


কিন্তু সেই বছর ঈদে রঞ্জুর সাথে ঘটে গেল এক অদ্ভুত কাণ্ড। ঈদের আগের দিন রঞ্জুর আম্মু প্রায় শখানেক রুটি বানিয়ে রেখেছেন। সব গোলগাল, ধবধবে সাদা। রঞ্জু ভাবল, ঈদ যেহেতু, একটু শখ করে সে নিজেই রান্নাঘরে সাহায্য করবে। সে চুপিচুপি রান্নাঘরে ঢুকে রুটির বাটিতে হাত দিল। একটা রুটি হাতে নিয়ে সে দেখল, সেটি দেখতে অনেকটা তার ছোটবেলার প্রিয় খেলনা ডাম্বেলটার মতো।

রঞ্জুর মাথায় তখন এক দুষ্টু বুদ্ধি এল। সে ভাবল, "রুটি তো অনেক আছে, একটা দিয়ে যদি একটু কারিগরি করা যায়!" সে একটা রুটি ভাঁজ করে সেটার ভেতর এক চিমটি লবণের বদলে অনেকটা চিনি ভরে দিল! আর একটাতে দিল ঝাল মরিচের গুঁড়ো! সে ভাবল, এগুলো অন্য কেউ খেলে কী হবে!

ঈদের সকালে ড্রয়িংরুমে সব আত্মীয়-স্বজন জড়ো হয়েছে। রঞ্জুর ফুফাতো ভাই রাফি এল রঞ্জুর বাড়িতে। রাফি এমনিতে খুব ভালো ছেলে, কিন্তু খাবারের ব্যাপারে সে একটু বেশিই উৎসাহী। রাফি প্লেটে রুটি আর মাংস নিয়ে বসল। রঞ্জু তখন সোফার কোণায় বসে রিমোট দিয়ে টিভি দেখছে আর আড়চোখে রাফির দিকে তাকাচ্ছে।

রাফি মাংসের ঝোলে রুটি ডুবিয়ে বড় এক কামড় দিল। রঞ্জু অপেক্ষা করছে রাফির প্রতিক্রিয়ার জন্য। রাফি যেই কামড় দিল, অমনি তার মুখটা যেন বেলুনের মতো ফুলে গেল। সে প্রথমে কিছুই বুঝতে পারল না। তারপরই তার চোখ দিয়ে জল বেরিয়ে এল! সে লাফিয়ে উঠল, "আরে! রুটির ভেতরে মরিচ কেন?"

রঞ্জু তখন হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু তখনই আসল ঘটনা ঘটল। রঞ্জুর আম্মু এসে বললেন, "রঞ্জু, তুই না বললি সবার জন্য স্পেশাল রুটি বানাবি? আমি তো সেই বাটিগুলোই সবাইকে পরিবেশন করেছি।"

রঞ্জুর হাসি তৎক্ষণাৎ থেমে গেল। সে দেখল, পাশের চেয়ারে বসে থাকা তার গম্ভীর চাচা সেই মিষ্টি রুটিটা খাচ্ছেন আর অবাক হয়ে তাকিয়ে আছেন। চাচা ভাবছেন, "মাংসের সাথে মিষ্টি রুটি! এটা কি নতুন কোনো বিদেশি ডিশ নাকি!" রঞ্জুর অবস্থা তখন কাহিল। সে বুঝল, নিজের পাতা ফাঁদে নিজেই ফেঁসে গেছে।

পুরো বাড়ি জুড়ে তখন হাসির রোল। কেউ ঝাল রুটি খেয়ে পানি খুঁজছে, আর চাচা মিষ্টি রুটি খেয়ে অস্বস্তিতে পড়েছেন। রঞ্জু সেদিন একটা বড় শিক্ষা পেল—শখ করে কাউকে জব্দ করতে গিয়ে দিনশেষে নিজেই ধরা খেতে হয়।

সেই থেকে আজও রঞ্জুর বাড়িতে ঈদ এলে সবাই হাসাহাসি করে ওই 'মরিচ-মিষ্টি' রুটির গল্প নিয়ে। রঞ্জু এখন বড় হয়েছে, তবে সে এখনো তার আম্মুর বানানো রুটি দেখলেই ভয় পায়—পাছে আবার ভেতরে কোনো নতুন 'সারপ্রাইজ' না থাকে!

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

শিরোনাম: স্বপ্নের পেছনে ছুটে চলা এক তরুণের গল্প — আমি রঞ্জু ইসলাম

জিমেইল আইডি খোলার নিয়ম । খুব সহজেই তৈরি করুন আপনার নিজস্ব ইমেইল অ্যাকাউন্ট

কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নিন এবং জিতে নিন আকর্ষণীয় নগদ পুরস্কার!