ফেসবুক ড্যাশবোর্ড: আমার অনলাইন যাত্রার কিছু না বলা কথা
আমরা যারা নতুন করে ইন্টারনেটে কিছু করার চেষ্টা করছি, তাদের জন্য ফেসবুকের ড্যাশবোর্ড কেবল কিছু সংখ্যার খেলা নয়, এটি এক বিশাল গবেষণাগার। আমার নিজের দিকে তাকালে দেখি, কদিন আগেও ফেসবুক বলতে আমার কাছে ছিল শুধু স্ট্যাটাস আর ছবি শেয়ার করা। কিন্তু যখন থেকে নিজের ব্লগিং বা অনলাইন কাজের ডেটাগুলো এই ড্যাশবোর্ডে ট্র্যাক করতে শুরু করলাম, তখন থেকেই পুরো ধারণাটাই বদলে গেল।
প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ফেসবুক ড্যাশবোর্ড চেক করা এখন আমার অভ্যাসের অংশ। ড্যাশবোর্ডের দিকে তাকালে প্রথমেই যেটা চোখে পড়ে, তা হলো আমার পোস্টগুলোর রিচ (Reach)। শুরুতে যখন রিচ একদম কম ছিল, তখন খুব হতাশ লাগত। মনে হতো, আমি যা লিখছি তা কি কারো ভালো লাগছে না? কিন্তু ওই সংখ্যার দিকে তাকিয়েই আমি বুঝতে শিখলাম—মানুষ ঠিক কোন সময়ে সক্রিয় থাকে এবং কোন ধরনের পোস্ট তারা পছন্দ করে। যারা বলে ফেসবুক কেবল বিনোদনের জায়গা, তারা সম্ভবত এর পেছনের এই ম্যাজিকটা বুঝতে পারে না।
ফেসবুক ড্যাশবোর্ড আমাদের জানায়, আমাদের বন্ধুরা বা ফলোয়াররা কারা। আমার অভিজ্ঞতা বলে, এখানে অতিরঞ্জিত কিছু কাজ করে না। আমি যখনই কোনো টিউটোরিয়াল বা কাজের জিনিস শেয়ার করেছি, ড্যাশবোর্ডের গ্রাফটা স্বাভাবিকভাবেই ওপরের দিকে উঠে গেছে। অন্যদিকে, শুধু ভিউ পাওয়ার আশায় কোনো ক্লিকবেট পোস্ট করলে তার রেজাল্ট খুব একটা ভালো আসে না। ফেসবুকের অ্যালগরিদম আসলে অনেক স্মার্ট—সে বুঝতে পারে কোনটি মানসম্মত কন্টেন্ট আর কোনটি কেবল লোক দেখানো।
ড্যাশবোর্ডের সবচেয়ে মজার পার্ট হলো এনগেজমেন্ট (Engagement)। যখন দেখি মানুষ কমেন্ট করছে, শেয়ার করছে—তখন কাজের উৎসাহ বহুগুণ বেড়ে যায়। অনেকে মনে করেন, শুধু পেজে লাইক বাড়ালেই হলো। কিন্তু ড্যাশবোর্ডের ডেটা বলে, লাইকের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো মানুষ আপনার পোস্টে কতটা সময় দিচ্ছে। আমার ব্লগের পোস্টগুলোর কথা যদি বলি, আমি যখন সরাসরি লিঙ্ক না দিয়ে ছোট করে সারাংশ লিখে তারপর ব্লগের লিঙ্ক দেই, তখন ড্যাশবোর্ডে এনগেজমেন্ট রেট অনেক বেশি থাকে। এটি একটি ছোট কিন্তু খুব কার্যকর টেকনিক।
অনেকে আমাকে জিজ্ঞেস করে, ভাই, আয় করার জন্য কী করব? আমি তাদের বলি, আগে এই ড্যাশবোর্ডের সংখ্যাগুলোকে ভয় পাওয়া বন্ধ করুন। যদি দেখেন কোনো পোস্ট খারাপ করছে, তবে সেটাকে ব্যর্থতা না ভেবে শিক্ষা হিসেবে নিন। দেখুন কী কী ভুল ছিল। হয়তো ছবিটা ভালো ছিল না, কিংবা লেখার ভঙ্গিটা বোরিং ছিল। ফেসবুক ড্যাশবোর্ড আমাকে প্রতিনিয়ত বলছে—'রঞ্জু, এই রাস্তাটা ঠিক না, তুমি একটু অন্যভাবে চেষ্টা করো'।
পরিশেষে বলব, ফেসবুকের ড্যাশবোর্ড হলো একজন নীরব শিক্ষকের মতো। আপনি যদি ধৈর্য নিয়ে তার দেওয়া ডেটাগুলো বুঝতে পারেন, তবে কোনো পেইড কোর্স ছাড়াই আপনি বুঝতে পারবেন অনলাইনে কীভাবে টিকে থাকতে হয়। আমার এই ছোট যাত্রায় ড্যাশবোর্ড আমাকে শিখিয়েছে, সাফল্য একদিনে আসে না। এটা হলো ছোট ছোট পোস্টের সমষ্টি, যা প্রতিদিন আপনাকে একটু একটু করে এগিয়ে নেবে। আপনার ড্যাশবোর্ডের সংখ্যাগুলো আজ হয়তো ছোট, কিন্তু নিয়মিত কাজ করলে ঠিকই একদিন দেখবেন সেই সংখ্যাগুলো আপনার সাফল্যের গল্প বলছে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন