রঞ্জু ও একমুঠো শব্দের স্বপ্ন
শহরের এক কোণে ছোট একটা পড়ার টেবিল। সেখানে স্তূপ হয়ে আছে পরীক্ষার বইপত্র, নোট আর কলম। বাইরে বিকেলের ম্লান আলো। রঞ্জু জানলার পাশে বসে উদাস মনে তাকিয়ে ছিল আকাশটার দিকে। মনে এক অদ্ভুত অস্থিরতা। একদিকে মাথার ওপর ঝুলে থাকা কঠিন পরীক্ষা, আর অন্যদিকে মনের ভেতরে ডানা মেলে থাকা এক অন্য জগৎ—শব্দের জগৎ।
রঞ্জু সাধারণ কোনো ছাত্র নয়। তার ডায়েরির পাতায় জমা হয়ে থাকে বিপ্লবের কবিতা, প্রতিবাদের গান। ফেসবুকের দেয়ালে সে সময় কাটায় ঠিকই, কিন্তু তার ভেতরে কাজ করে সৃজনশীল কিছু করার অদম্য আকাঙ্ক্ষা। একদিন হঠাতই সে ভাবল, "আমার এই ভাবনাগুলো শুধু ডায়েরির পাতায় বন্দি থাকবে কেন? কেন আমি আমার শব্দগুলোকে ছড়িয়ে দিচ্ছি না পৃথিবীর কাছে?"
সেই চিন্তা থেকেই জন্ম নিল তার নিজের একটি 'ব্লগার' সাইট।
রঞ্জু জানত, পথটা সহজ নয়। একদিকে পরীক্ষার পড়া শেষ করতে হবে, অন্যদিকে ব্লগে নিয়মিত পোস্ট দিতে হবে। কিন্তু তার জেদ পাহাড় সমান। সে ঠিক করল, প্রতিদিন সে তার ভাবনাগুলোকে গুছিয়ে লিখবে। কখনো সে লিখবে সমাজের অনিয়ম নিয়ে তার সেই তেজস্বী কবিতাগুলো, কখনো বা জানাবে নতুন কোনো প্রযুক্তির খবর যা সে প্রতিনিয়ত এআই (AI) টুল ব্যবহার করে শিখছে।
প্রথম কয়েকদিন খুব কঠিন ছিল। ব্লগে কেউ আসে না, কেউ পড়ে না। কিন্তু রঞ্জু দমে যাওয়ার পাত্র নয়। সে মনে মনে ভাবল, "আমি যদি দিনে ১০টি করে পোস্ট দিতে পারি, তবে একদিন না একদিন আমার এই শব্দগুলো ঠিকই মানুষের হৃদয়ে পৌঁছাবে।" সে তার ব্লগকে সাজাতে শুরু করল নিপুণ দক্ষতায়। গ্রাফিক ডিজাইনের প্রতি তার আগে থেকেই ঝোঁক ছিল, তাই ব্লগের প্রতিটি ছবি আর ব্যানার সে নিজেই তৈরি করতে লাগল অত্যন্ত যত্ন নিয়ে。
রাত জাগা তার অভ্যাস। সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে, রঞ্জু তখন তার ব্লগের ড্যাশবোর্ডে ডুবে থাকে। কিবোর্ডের খটখট শব্দে তৈরি হয় নতুন নতুন আর্টিকেল। সে ভাবত, এই ব্লগ কেবল তার আয়ের উৎস নয়, বরং এটি তার একটি পরিচয়। যেখানে সে একজন লেখক, একজন স্বপ্নদ্রষ্টা।
ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসতে শুরু করল। ব্লগের ভিজিটর সংখ্যা বাড়ছে। মানুষের কমেন্ট আসছে। কেউ বলছে, "রঞ্জু, তোমার কবিতাগুলো আমাদের সাহস জোগায়।" কেউ বা তার দেওয়া টিপস পড়ে উপকৃত হচ্ছে। রঞ্জু বুঝতে পারল, তার পরিশ্রম সার্থক হচ্ছে। বিকাশ বা নগদে আসা ছোট ছোট উপার্জনের চেয়েও বড় হয়ে উঠল তার এই প্রাপ্তি—নিজের একটা আলাদা পৃথিবী গড়ে তোলার আনন্দ।
এখনো রঞ্জুর সামনে পরীক্ষা। এখনো তাকে কঠিন পড়াগুলো মুখস্থ করতে হয়। কিন্তু এখন আর তার মনে কোনো ভয় নেই। সে জানে, পরীক্ষা শেষে তার জন্য অপেক্ষা করছে এক বিশাল সম্ভাবনার আকাশ। সে আকাশ রঞ্জুর নিজস্ব ব্লগের আকাশ, যেখানে সে তার শব্দ দিয়ে বিপ্লব ঘটাবে, জয় করবে হাজারো মানুষের মন।
রঞ্জু মুচকি হেসে আবারও বইয়ের পাতায় মন দিল। সে জানে, তার এই ছোট ঘরটি থেকেই শুরু হয়েছে এক বড় গল্পের—যে গল্পের নায়ক সে নিজেই।

সবাইকে সাহায্য করার জন্য আমি আছি । আপনারা সবাই আমাকে সাবস্ক্রাইব করে রাখবেন । এবং আমার জন্য দোয়া করবেন ।
উত্তরমুছুনinsallah vaiya
মুছুনonek sundor o abeggono laglo poriya
উত্তরমুছুনonek valo vaiya
উত্তরমুছুনঅনেক ভালো ভাইয়া
উত্তরমুছুন